1. admin@manirampurkantho.com : admin :
শিরোনাম :
ত্রানের চাল চুরির মামলায় প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নে বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মাল ক্রকের আদেশ মনিরামপুরের কৃতি সন্তান ডা. মেহেদী হাসানকে করোনা চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য সংবর্ধনা প্রদান মণিরামপুরে জেল হত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে মামার ধর্ষণের শিকার ভাগ্নি অবরুদ্ধ যে কোন সময়ে অপহরণ হতে পারে ধর্ষিতা ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন বন্ধসহ অপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে মণিরামপুরে বন্ধনের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মনিরামপুরে ৫৫৫ বস্তা চাউল কান্ডে ভাইস চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ডিবির মামলা মণিরামপুরে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে ভূয়া নিয়োগসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন “শুভ মহালয়া”- সবাইকে আগমনীর আনন্দ বার্তা ও শুভেচ্ছা অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস মণিরামপুর সরকারি কলেজে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ

ফুলের রাজধানী ঝিকরগাছার গদখালীতে তিনটি উৎসবে বিক্রি হবে প্রায় ৪০কোটি টাকার ফুল

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ২৭৬ Time View

আবজাল হোসেন চাঁদ ও ফরিদা ইয়াসমিন পলি, গদথালী থেকে ফিরে ॥ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা হলেও বাংলাদেশের ফুল উৎপাদনের দিক থেকে ধরতে গেলে দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা বিভাগে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার অর্ন্তগত ৪নং গদখালী ইউনিয়নকে ফুলের রাজধানী বলা যায়। ফুলের রাজধানী ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে ফেব্রুয়ারী মাসেই ক্রমাগত ভাবে ১৩ ফেব্রুয়ারী বসন্ত দিবস, ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দেশের মধ্যে এই স্থানের ফুল দিয়ে বেশির ভাগ তাদের মনোবাসনা পূরণ করে থাকেন। এখানকার চাষীরা প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যাপক চাষের মাধ্যদিয়ে চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে এবং প্রায় ৪০কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে চাষী ও ব্যবসায়ীরা তাদের আশাব্যক্ত করেছেন।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নে ফুল প্রেমী শেরআলী ১৯৮৩ সালে ভারত থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বীজ এনে চাষ শুরু করেন। তার এই চাষের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকেও উন্নত মানের ফুলের বীজ নিয়ে এসে চাষ করে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করেন। তার ফুল চাষের সাফল্য দেখে গ্রামের অন্য কৃষকগোষ্ঠীরা ফুল চাষের উপর ঝুকে পড়ে এবং ফুল চাষের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হন।

উপজেলার গদখালী ইউনিয়ন ও পানিসারা ইউনিয়নের বহু চাষি তাদের জমিতে ধান-পাটের চাষ বাদ দিয়ে বছর জুড়ে ফুল চাষ শুরু করেছেন। দিনরাত পরিশ্রমের মধ্যদিয়ে এখানকার চাষিরা গোলাপ, রজনীগন্ধ্যা, গ্যান্ডরিয়া, জারবেরা, গাঁদা, ক্যালোনন্ডোলাসহ, লিলিয়াম, গ্লাডিউলাস, চন্দ্রমল্লিকা, রডস্টিক, জিপসিসহ ১১ ধরণের ফুল চাষ করে দেশ ও দেশের বাহিরের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। সারাবছর কোন রকমে ফুল বেচাকেনা হলেও নতুন বছরের ফেব্রুয়ারী মাসেই তিনটি উৎসবকে ঘিরেই চলে মূল বেচাকেনা পরিচালানা করেন চাষিরা। দেশের বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল সহ বাহারি লতাপাতার গাছ উৎপাদন করে স্থানীয় ভাবে বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানি তালিকায় সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে আশা জাগিয়েছে। এই স্থানের ফুল রপ্তানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের ভারত, পাকিস্তান, ইতালি, কানাডা, চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া ও ফ্রান্সে রপ্তানি করা হয়। দেশের প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করা হয়। সর্বমোট বছরে ৭৮৪ কোটি টাকার ফুল বার্ণিজ্য হয়ে থাকে। অভ্যন্তরীণ ফুলের বাজার রয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। খুচরা বিক্রেতার সংখ্যা ২০ হাজার। দেশের ২০টি জেলায় বিভিন্ন জাতের ফুল উৎপাদন হচ্ছে। দেশের প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ ফুল চাষের সাথে জড়িত রয়েছে। ফুল চাষে অনেক সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও ফুল চাষে মানুষ আগ্রহী হচ্ছে।

গদখালীর ফুল চাষের বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান দেশের বিরাট একটা অংশ জুড়ে রয়েছে আমাদের উপজেলার গদখালীর ফুল চাষ। এই ফুল চাষের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের কাছেও উজ্জল নক্ষত্র হিসাবে পরিচিত হয়েছি। কিন্তু ফুল উৎপাদন করে ফুল চাষিরা তাদের ন্যায মূল্যে পাই না বেশির ভাগ টাকাই চলে যায় মধ্যস্বত্তভোগীদের পকেটে। সরকারের নিকট আমার আবেদন, মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ব দূর করে ফুল চাষিদের ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা করা আবশ্যক। যেন ফুল চাষিরা ন্যায মূল্য পায়। সল্প সুদে চাষিদের ফুল চাষের উপর ঋণ দিলে ভালো হয় এবং উৎপাদিত ফুল ক্রমাগত ভাবেই নষ্ট হয়ে যায়। এর জন্য ফুল সংরক্ষনাগার প্রয়োজন। তা না হলে চাষিরা ক্রমাগত ভাবেই ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার দীপঙ্কর দাশ বলেন, গদখালী  ইউনিয়নের ফুল দেশের চাহিদা পূরণ করে বাহিরের দেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে বলে আমি গর্বিত। কিন্তু সেন্টিগ্রেট মুক্ত ফুল ব্যবসা পরিচালনায় মাধ্যমে চাষিদের মনোবাসনা পূরণ করতে হবে এবং ফুল সংরক্ষনাগার প্রয়োজন এটা হলে চাষিরা লাভোবান হবে। দেশের মোট ফুলের চাহিদার ৭০ভাগ ফুলই গদখালীতে উৎপাদিত হয়ে থাকে। এবং চাষিদের উপকারের কারণে আমি সর্বদা চাষিদের পাশে থাকবো।

গদখালীতে অবস্থিত বাংলাদেশ ফ্লাওয়ারস সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, বর্তমানে সারাদেশের প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ মানুষ তাদের জীবিকা ফুল চাষের মাধ্যমে উপার্জন করে থাকে। প্রায় ২৮-৩০ হাজার কৃষক ফুল চাষের সাথে নিজেকে অর্গ্রসর করেছে। যার মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের প্রায় ১০-১২ হাজার কৃষক। সারা বছর কোন মতে ফুল বিক্রি হলেও ফেব্রুয়ারী মাসেই ফুল বিক্রি হয় সব চেয়ে বেশি। এই ফেব্রুয়ারী মাসে তিনটি দিবসকে পালনের জন্য চাষিরা প্রায় ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রয় হবে বলে আমি আশা করতে পারছি। গদখালীতে মাত্র ৩০ শতক জমিতে ফুল চাষ শুরু করা হলেও বর্তমানে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। দেশের মোট ফুলের চাহিদার ৮০-৮৫ ভাগ ফুলই গদখালীতে উৎপাদিত হয়ে থাকে। বর্তমানে এখানকার ফুল সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। দেশের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ইভেন্ড ম্যানেজমেন্ট প্লাসিক ফুলের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে যার কারণে ফুল ব্যবসায়ে ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও ফুল সংরক্ষনের পরে অনেক সময় দেখা যায় ফুল বিক্রি হয় না যার কারণে ফুল নষ্ট হয়ে যায়। যদি একটি সংরক্ষনাগার থাকে তাহলে চাষিরা ফুল নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।


Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category


© All rights reserved © 2020 www.manirampurkantho.com
Site Customized By NewsTech.Com