1. admin@manirampurkantho.com : admin :
শিরোনাম :
বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মণিরামপুরে স্বাস্থ্যকর্মীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলমান ত্রানের চাল চুরির মামলায় প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নে বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মাল ক্রকের আদেশ মনিরামপুরের কৃতি সন্তান ডা. মেহেদী হাসানকে করোনা চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য সংবর্ধনা প্রদান মণিরামপুরে জেল হত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে মামার ধর্ষণের শিকার ভাগ্নি অবরুদ্ধ যে কোন সময়ে অপহরণ হতে পারে ধর্ষিতা ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন বন্ধসহ অপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে মণিরামপুরে বন্ধনের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মনিরামপুরে ৫৫৫ বস্তা চাউল কান্ডে ভাইস চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ডিবির মামলা মণিরামপুরে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে ভূয়া নিয়োগসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন “শুভ মহালয়া”- সবাইকে আগমনীর আনন্দ বার্তা ও শুভেচ্ছা অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস

হবে কি? মণিরামপুরে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ পূর্নাঙ্গ কমিটি 

  • Update Time : শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৮
  • ১৭২ Time View

নূরুল হক, মণিরামপুর:

বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চালের সীমান্তবর্তী জেলা যশোর। দেশে পুরাতন যে কয়টি জেলা আছে যশোর তার মধ্যে অন্যাতম। এ জেলার উপজেলার সংখ্যা ৮টি। এগুলোর মধ্যে মণিরামপুর বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজেলার মধ্যে অন্যাতম। জেলার অধিকাংশ জনসাধারণ মনে করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা এটি। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভা নিয়ে এটি গঠিত। গ্রামের সংখ্যা রয়েছে ২৪৯টি। এর আয়াতন ৪৪৪.৭৩বর্গ কিমি, মফস্বল ও পল্লী জনপদ হওয়া সত্বেও জনসংখ্যার ঘনত্ব তুলনামুলকভাবেও অনেক বেশি। প্রায় ৫০ হাজার সংখ্যালঘু ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে ৩ লাখ। জাতীয় সংসদের আসন নং-৮৯, যশোর-৫ (মণিরামপুর এলাকা নিয়ে গঠিত)। ৯০-এর স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর দেশে মোট জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫ বার ( ৯৬-এর ১৫ ফ্রেরুয়ারীর বিতর্কিত নির্বাচন বাদে)। এই ৫টি জাতীয় নির্বাচনে মধ্যে ৯১ ও ৯৬ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী খান টিপু সুলতান নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপি ও বিএনপি জোট প্রার্থীকে শোষনীয় ভাবে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের দলীয় একাংশের বিরোধীতা সত্বেও তিনি আবারও  দলীয় মনোনয়ন পান। কিন্তু দলীয় অভ্যান্তরিন কোন্দলের দানাটি তার জয়ের পথটি রুদ্ধ করে দেয়। ফলে অল্প ভোটের ব্যবধানে জোট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মুফতী ওয়াক্কাসের কাছে ধরাসায়ী হন। ২০০৮ সালে এড. খান টিপু সুলতান আবারও আওয়ামীলীগের মনোননয়ন পান এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে  বিএনপি জোট প্রার্থী মুফতী মাওলানা ওয়াক্কাসকে পরাজিত করে হ্যাট্রিক সংসদ সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করতে সক্ষম হন। এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচন। জননেত্রী শেখ হাসিনা আবারও নৌকা তুলে দেন জনপ্রিয় নেতা এড. খান টিপু সুলতানের হাতে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই যখন আওয়ামীলীগ বিনা-প্রতিদ্বন্দিতায় ১৫৩টি আসনে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের দারপ্রান্তে পৌছে গেছে-ঠিক তখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন অর্থ্যৎ ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর এলাকা) আসনটি জামায়াত-বিএনপি জোটের কঠোর প্রতিরোধের মুখে ৬৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন স্থগিত হওয়া কেন্দ্রের মধ্যে ৬০ কেন্দ্রের পুনরায় ১৬ জানুয়ারী ভোট গ্রহনের নির্দেশ দেন। তবে ৫ জানুয়ারীর ফলাফলে খান টিপু সুলতানের নৌকা প্রতীক স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্যের কলস প্রতীক থেকে এগিয়ে থাকলেও ১৬ জানুয়ারীর স্থগিত হওয়া কেন্দ্রের ফলাফল হিসেবে তিনি পিছিয়ে পড়েন। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যাই হোক না কেন এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্য স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হলেও তিনি যে আওয়ামী ঘরানার এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ যখন তিনি নির্বাচন করেছিলেন তখনও তিনি জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ পদে আসীন ছিলেন (অবশ্য নির্বাচনের সময় সেটা স্থগিত হয়েছিল)।

এ উপজেলারই কৃতি-সন্তানেরা বৃহত্তম রাজনৈতিক দল গুলোর বড়-বড় পদে আসিন হয়েছেন, মন্ত্রীতেরও সাধ গ্রহন করেছেন। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মূল দলসহ দলটির সহযোগি ও অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন এবং করছেন। যে কারণে মণিরামপুর আওয়ামীলীগ পাগল নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা গর্ব করতে পারে, খুশিতে গদ-গদ হয়ে বলতে পারে-আমরা মণিরামপুরের সন্তান। এই জনপদের মাটিতে জন্ম নিয়েই আমরা ধন্য।

কিন্তু মণিরামপুরের আওয়ামীলীগ পাগল সেই মানুষগুলোর খই ফুটানো বক্তব্য এখন আর নেই। হারিয়ে গেছে তাদের চাঞ্চল্যতা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর নির্দেশ পালন বা কোন দিবস বা দলীয় কোন সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং যাই বলি কেন-এখন আর আগেরমতো বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রাম বা মহল্লা থেকে নিজ উদ্যোগে দলে-দলে নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা সেই শ্রুতি মধুর মিছিলের ধ্বনি উচ্চারণ করতে-করতে আসার দৃশ্য তেমন একটা চোখে পড়ে না। কানে ভেসে আসে না-এই শ্লোগান গুলো ‘এক মুজিব লোকান্তরে-লক্ষ মুজিব ঘরে-ঘরে,’ ‘কে বলেরে মুজিব নাই-মুজিব সারা বাংলায়,’ ‘আমাদের ধমনিতে-শেখ মুজিবের রক্ত-এই রক্ত কোন দিনও বৃথা যেতে পারে না।’ যাহা আসে তাহা মনে হয় মেকি না হয় মন্থর। মনে হয় জোর করে তাদের মুখ দিয়ে এগুলো বলানো হচ্ছে। দলীয় মারপ্যাচে বর্তমানে নিজঘরে বাধ্য হয়ে পরবাসির মতো বসে থাকা অনেক নেতাকর্মী এ দৃশ্যের দেখে অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

কিন্তু প্রিয় পাঠক আজকে এই দৃশ্যের অবতরণা কেন হলো-সেটাই মূল লক্ষ্য। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের আওয়ামীলীগের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়েছিল। সেই সময় ওই সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান সভাপতি ও পৌর মেয়র অধ্যক্ষ আলহাজ্জ কাজী মাহমুদুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন (বর্তমান মরহুম) গোলাম মোস্তফা। ৩ বছর মেয়াদের এই কমিটির কার্যক্রম চলে প্রায় ১ যুগ। এরপর ২০১৪ সালে আবারও সম্মেলন। এবারও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুল হাসান ও মরহুম গোলাম মোস্তফা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। কিন্তু নানা কারণে সেই কমিটির পূর্নাঙ্গ রূপ পেলনা। দলের ভিতর নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে থাকলো। নেতারা হাতাশায় ভূগতে থাকে উপজেলা আওয়ামীলীগের পদ-পদবী নিয়ে। বিধিবাম এরই মধ্যে মণিরামপুরের জানপ্রিয় নেতা, সকলের আস্তাভাজন, যার নেতৃত্বে মণিরামপুরের আওয়ামীলীগ ছিল গতিশীল, দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল প্রানচাঞ্চল্য-চলে গেলেন তিনি না ফেরার দেশে। তিনি আমাদের সকলের প্রিয় গোলাম ভাই।

এরপর মণিরামপুরের আওয়ামীলীগ হয়ে গেলো ১ জন বিশিষ্ট্য কমিটি। আর হলো না পূর্নাঙ্গ কমিটি। হবেও বা কি করে। পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক নিয়ে শুরু হয়ে গেলে নাটকের পর নাটক। মণিরামপুরের আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা পড়ে গেলো আরেক গোলক ধাঁধায়। এ যেন মড়ার উপর খড়ার ঘাঁ। দফায়-দফায় জেলা ও উর্ধতন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ চেষ্টা করেও দলের সাধারণ সম্পাদক পদটি পূরণ করতে পারলেন না। মাস খানেক আগে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীসহ উপজেলা, জেলাসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের কেন্দ্রীয পর্যায় ডাক পড়ে ছিল। মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলী পাগল নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা মনে করেছিল এবার হয়তো তাদের আশা পূর্ন হবে। দল বেধে পদপ্রার্থীসহ হিতাকাঙ্খিরা ঢাকা গিয়েছিল। কিন্তু ফলাফল রয়ে গেলো সেই-ই শুন্য। ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে ঢাকা মুখি হয়েও কোন ফল পাওয়া গেলো না। এদিকে ঢাকার মিশন ব্যর্থ হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামীলীগের নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক নেতা আক্ষেপকরে বলছেন, হবে কি? মণিরামপুরে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ পূর্নাঙ্গ কমিটি ।


Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category


© All rights reserved © 2020 www.manirampurkantho.com
Site Customized By NewsTech.Com