1. admin@manirampurkantho.com : admin :
শিরোনাম :
মণিরামপুরে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে ভূয়া নিয়োগসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন “শুভ মহালয়া”- সবাইকে আগমনীর আনন্দ বার্তা ও শুভেচ্ছা অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস মণিরামপুর সরকারি কলেজে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ মণিরামপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের উপর হামলা হামলায় নারী-পুরুষসহ আহত ১০, দেশী অস্ত্র ও গাজা উদ্ধার মণিরামপুরে কৃষকদলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ৭১’র পরাজিত শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ছাত্রলীগকে মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে -প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য মণিরামপুরে ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির স্মারকলিপি প্রদান ভূয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভয়নগর দাপিয়ে মনিরামপুরে আটক বাইক চালিয়ে গায়ে হলুদ ও বিয়ের অনুষ্ঠানে কনে

এখনও সক্রিয় মণিরামপুরে চাল পাচার সিন্ডিকেট!

  • Update Time : বুধবার, ২০ মে, ২০২০
  • ৩২৭ Time View

মণিরামপুর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুরে সরকারি ৫৫৫ বস্তা চাল পাচারকাণ্ডে জড়িতদের সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে পাচারকাণ্ডে জড়িত এ সিন্ডিকেটই চাষিদের কাছ থেকে দুই হাজার ৫২৯ মেট্রিকটন আমন ধান সংগ্রহের নামে কমিশন বাবদ কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নেয়। আর কমিশনের এ টাকা আদায়ের মূল দায়িত্ব পালন করেন সিন্ডিকেট সদস্য জুড়ানপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জগদিশ দাসসহ কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, এ সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন একজন জনপ্রতিনিধি। তবে ৫৫৫ বস্তা চাল পাচারকাণ্ডের পর প্রশাসনের বেশ তৎপরতার কারণে জগদিশসহ সিন্ডিকেটের অধিকাংশরাই এখন গাঢাকা দিয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন হোসেন খান জানান, মণিরামপুরে আমন ধান সংগ্রহ করা হয় এক হাজার ৪০ টাকা মণ দরে ৬৩ হাজার ২২৫ মণ (দুই হাজার ৫২৯ মেট্রিক টন)। কৃষি অফিসের প্রস্তুতকৃত চাষির তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয় দুই হাজার ১৫০ জনকে। প্রতি চাষির কাছ থেকে এক থেকে দেড় মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয় গত বছর ১২ ডিসেম্বর। আর সংগ্রহ শেষ হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। নিয়ম রয়েছে কার্ডধারি যেসব চাষিরা আমন চাষ করেন শুধুমাত্র সেই সব চাষিদের নাম ক্রয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার। কিন্তু কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসারেরা সঠিকভাবে যাচাইবাছাই না করে গোজামিল দিয়ে তড়িঘড়ি করে তালিকা প্রস্তুত করায় ভুয়া নামের ছড়াছড়ি হয়। বাদ পড়ে প্রকৃত চাষিরা। কিন্তু ঢালাও এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার তরফদার জানান, প্রথম দিকে কিছু গরমিল হলেও পরবর্তিতে তা নিরসন করা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করতে আমন মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে যায়। ফলে অধিকাশ চাষিদের ঘরে তখন ধান ছিল না। এ সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগী এ সিন্ডিকেট চাষিদের কাছ থেকে কৃষিকার্ড সংগ্রহ শুরু করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেটের এক সদস্য জানান, চাষিদের কাছ থেকে কার্ড সংগ্রহের প্রধান দায়িত্ব পালন করেন সিন্ডিকেটের অপর সদস্য জুড়ানপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জগদিশ দাস। আর জগদিশকে এ কাজে সহায়তা করতেন তার গুরু চাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অষ্টম দাস, দেবাশীষ দাস, চৈতন্য দাস, শহিদুলসহ বেশ কয়েকজন। এরা চাষিদের বিভিন্ন প্রলোভন ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কৃষিকার্ড সংগ্রহের পর নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর আদায় করতেন। পরবর্তিতে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাজার থেকে কম মূল্যে (ছয়শ টাকা মণ প্রতি) ধান ক্রয়ের পর ওই সব কৃষিকার্ড এবং স্বাক্ষর করা ফরম নিয়ে সরকারি খদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করেন। আবার অনেকের কাছ থেকে মণ প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নিয়ে ধান দেয়ার জন্য কৃষি কার্ড বিক্রি করতেন। সব মিলিয়ে আমন ধান থেকে এ সিন্ডিকেট কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নেয়।
আর কমিশনের এ টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সিন্ডিকেটের মধ্যে ঠান্ডা বিরোধও দেখা দেয়। সিন্ডিকেটের অপর এক সদস্য জানান, মূলত এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই ৪ এপ্রিল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ ভাইভাই রাইস মিল এন্ড চাতালে অভিযান চালিয়ে সরকারি ৫৫৫ বস্তা চালসহ আটক করে চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ট্রাক চালক ফরিদ হাওলাদারকে।
অবশ্য এসময় সেখানে চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিকসহ উপস্থিতিদের সামনে চাল পাচারের ঘটনায় খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), সিন্ডিকেট নেতা শহিদুল ইসলাম, অষ্টম দাস, জগদিশ দাসসহ জড়িত অনেক কুশিলবদের নাম প্রকাশ করে। অথচ পুলিশ বাদী হয়ে শুধুমাত্র চাতাল মালিক মামুন এবং ট্রাকচালক ফরিদের নামে মামলা করেন।
পুলিশ ৫ এপ্রিল মামুন এবং ফরিদকে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৭ এপ্রিল তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা বসুর আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক মামুন এবং ফরিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন চাল পাচারের ঘটনায় তাদের সাথে আরো জড়িত ছিলেন সিন্ডিকেট নেতা শহিদুল ইসলাম, জগদিশ দাসসহ দুইজন সরকারি কর্মকর্তা। অবশ্য উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম এবং ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চু একে অপরের বিরুদ্ধে সরকারি চাল পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ২১ এপ্রিল যশোর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামুনের স্বীকারোক্তি মোতাবেক চাল পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ মে রাতে ডিবি পুলিশের একটি টিম পৌরশহর থেকে সিন্ডিকেট নেতা শহিদুল ইসলামকে আটক করে। পরে শহিদুল ইসলাম আদালতে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন সরকারি চাল পাচারের ঘটনায় তার সাথে জড়িত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চু এবং পাতন-জুড়ানপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি যুবলীগ নেতা রুহুল কুদ্দুস। তবে এ অভিযোগকে অনেকেই দলীয় এবং সিন্ডিকেটের কোন্দলের ফসল হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, যখন যে সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, তখন সে সরকার দলিয় নেতাকর্মীরাই মূলত এ সিন্ডিকেট পরিচালনা করে থাকেন। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
অপরদিকে সিন্ডিকেটের প্রধান আদায়কারী জুড়ানপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জগদিশ দাসকে পুলিশ এখনও আটক করতে পারেনি। তাকে আটক করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরো বড় বড় রুই-কাতলার নাম বেরিয়ে আসবে বলে অভিজ্ঞমহলের দাবি। তবে সরকারি ৫৫৫ চাল পাচারকা- মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যশোর ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মেদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের জানান, সরকারি চাল পাচার ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।


Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category


© All rights reserved © 2020 www.manirampurkantho.com
Site Customized By NewsTech.Com