1. admin@manirampurkantho.com : admin :
শিরোনাম :
বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মণিরামপুরে স্বাস্থ্যকর্মীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলমান ত্রানের চাল চুরির মামলায় প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নে বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মাল ক্রকের আদেশ মনিরামপুরের কৃতি সন্তান ডা. মেহেদী হাসানকে করোনা চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য সংবর্ধনা প্রদান মণিরামপুরে জেল হত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে মামার ধর্ষণের শিকার ভাগ্নি অবরুদ্ধ যে কোন সময়ে অপহরণ হতে পারে ধর্ষিতা ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন বন্ধসহ অপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে মণিরামপুরে বন্ধনের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মনিরামপুরে ৫৫৫ বস্তা চাউল কান্ডে ভাইস চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ডিবির মামলা মণিরামপুরে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে ভূয়া নিয়োগসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন “শুভ মহালয়া”- সবাইকে আগমনীর আনন্দ বার্তা ও শুভেচ্ছা অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস

মণিরামপুরে একযুগ পর সূর্যমুখী চাষে চাষীদের আগ্রহ বাড়ছে

  • Update Time : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০
  • ৪৩৯ Time View

প্রবীর কুন্ডু,মণিরামপুর: যশোরের মণিরামপুরে একযুগ পর আবারও সূর্যমুখী চাষ শুরু হয়েছে। সূর্যমুখী চাষে চাষীদের আগ্রহ বাড়াতে ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলক তিনটি প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। এসব প্লটসমুহে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে বোরো-আমন ধানে অব্যাহত লোকসান হওয়ায় চাষীরা একটু লাভের আশায় নতুন করে সূর্যমুখী চাষের প্রতি ঝুকছেন। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, একযুগ(১২ বছর) পর মণিরামপুরে আবারও সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পরীক্ষামূলক তিনটি প্রদর্শনী প্লটে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়া বিরাজ করায় ফলনও ভাল হবার ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চাষের ৯০ থেকে ৯৫ দিনের মধ্যেই ফলন ঘরে তোলা সম্ভব।প্রতিবিঘায় ১১ থেকে ১২ মন সূর্যমূখী উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। বর্তমান বাজার দর রয়েছে প্রতিমন ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকা। প্রদর্শনী প্লটের আওতায় উপজেলার চাকলা গ্রামের চাষী শহিদুল ইসলামের প্রায় দেড় বিঘা, খেদাপাড়া গ্রামের ফারুক হোসেনের দেড় বিঘা এবং ভোজগাতী গ্রামের আন্না খাতুনের এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। চাকলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের তত্ত¡াবধানে গত ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে তিনি প্রায় দেড় বিঘা জমিতে সূর্যমূখীর চাষ করেন। কৃষি বিভাগ থেকে বীজ, সার, কিটনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সূর্যমুখী গাছে ব্যাপক ফুল ফুটেছে। শহিদুল ইসলাম জানান, অনুকুল আবহাওয়া বিরাজ করলে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে ক্ষেত থেকে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে। শহিদুলের জমিতে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখে ওই এলাকার চাষী আবদুল মজিদ জানান, বোরো এবং আমন ধানের লোকসান সামলাতে তিনিও সূর্যমূখী চাষ করার কথা ভাবছেন। শুধু আবদুল মজিদ নয়, ওই এলাকার আতিয়ার রহমান, আবদুল মান্নান, শফিয়ার রহমানসহ অনেক চাষী এখন সূর্যমুখী চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। খেদাপাড়া গ্রামের জুলফিকার আলীর ছেলে ফারুক হোসেন বিএ অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি লেখাপাড়ার পাশাপাশি পিতার জমিতে বিভিন্ন ফসলের চাষ করে থাকেন। তিনি এবার দেড় বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। ফারুক হোসেন জানান, কৃষি অফিসের সরবরাহকৃত হাইব্রিড এস-২৭৫ জাতের বীজ বপন করেন। ইতিমধ্যে তার ক্ষেতের সূর্যমুখীতে ফুল আসতে শুরু করেছে। ভাল ফলন হলে আগামী মৌসুমে আরো বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করার আশা করছেন তিনি। ফারুক হোসেনের মত এলাকার অনেক চাষীই এখন সূর্যমূখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন বলে জানাগেছে।

ভোজগাতী গ্রামের রাসেল হোসেন ও তার স্ত্রী আন্না খাতুন তারা দুজনেই চাষী। কৃষি অফিসের তত্ত¡বধানে এবার আন্না খাতুন এক বিঘা জমিতে সূর্যমূখীর চাষ করেছেন। আন্না খাতুন জানান, ফলন ভাল হলে আগামীতেও তিনি সূর্যমুখী চাষ করবেন। কারন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ধানে প্রতিবারই লোকসান হয়। তার মতে নুতন এ ফসলে যদি লাভ হয় তাহলে ধান চাষ করে কেন লোকসান করবেন। উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার জানান, ইতিপূর্বে মণিরামপুরে সূর্যমুখীর চাষ করা হত। কিন্তু প্রতিকুল আবহাওয়া এবং টিয়াপাখির কবলে পড়ে সূর্যমুখীর ফলন ভাল না হওয়ায় চাষীরা এ চাষ বন্ধ করে দেন। বর্তমান আবহাওয়া অনুকুলে থাকা এবং টিয়াপাখির উপদ্রব না থাকায় নতুন করে সূর্যমুখী চাষে চাষীদের আগ্রহ বাড়াতে প্রদর্শনী প্লটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন চাষীরা সূর্যমূখী চাষ করে লাভবান হবেন পাশাপাশি উন্নতমানের ভোজ্যতেল ভোক্তারা সহজেই হাতের নাগালে পাবেন। কারন সূর্যমুখী দিয়ে যে ভোজ্য তেল উৎপাদন হয় তাতে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ পরিমানের কোলেষ্টেরল থাকে। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত কার্যকরি। ইতিমধ্যে অনেক চাষী সূর্যমূখী চাষ করতে পরামর্শ নিতে কৃষি বিভাগে যোগাযোগ করছেন বলে কৃষি অফিসার জানিয়েছেন।


Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category


© All rights reserved © 2020 www.manirampurkantho.com
Site Customized By NewsTech.Com