1. admin@manirampurkantho.com : admin :
শিরোনাম :
ত্রানের চাল চুরির মামলায় প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নে বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মাল ক্রকের আদেশ মনিরামপুরের কৃতি সন্তান ডা. মেহেদী হাসানকে করোনা চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য সংবর্ধনা প্রদান মণিরামপুরে জেল হত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে মামার ধর্ষণের শিকার ভাগ্নি অবরুদ্ধ যে কোন সময়ে অপহরণ হতে পারে ধর্ষিতা ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন বন্ধসহ অপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে মণিরামপুরে বন্ধনের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মনিরামপুরে ৫৫৫ বস্তা চাউল কান্ডে ভাইস চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ডিবির মামলা মণিরামপুরে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে ভূয়া নিয়োগসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন “শুভ মহালয়া”- সবাইকে আগমনীর আনন্দ বার্তা ও শুভেচ্ছা অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস মণিরামপুর সরকারি কলেজে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ

মণিরামপুরে চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখী লড়াই হবে

  • Update Time : রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৯
  • ২৪৫ Time View

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে রবিবার (৩১মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্দীতা তিন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে প্রাপ্ত বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। তবে মূল প্রতিদন্দীতা নৌকার প্রার্থীর সাথে হবে এমন ধারনা করছেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। তবে অনেকেই এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষন করে বলেছেন স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে মণিরামপুরে চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থীই সরকারি দল আ’লীগ ঘরনার হওয়ায় আ’লীগের নেতা-কর্মী ও ভোটার সমর্থকেরা প্রতীককে প্রাধান্য না দিয়ে প্রার্থী দেখেই ভোট দিবেন। এমন ধারনা পোষন করেছেন আ’লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মীরা। তবে নির্বাচনের দিনক্ষন যতই ঘনিয়ে আসছে এ নির্বাচনকে ঘিরে মণিরামপুর উপজেলায় প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে আশা-আকাংখার সাথে-সাথে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার শেষ নেই। চেয়ারম্যান পদে ভোটযুদ্ধে সমান তালে প্রচার-প্রচারনায় আছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা খানম, মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসন লাভলু ও আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব খান। ৩ প্রার্থীই সমানতালে দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটার সাধারনের দ্বারে দ্বারে যেয়ে তথা বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ ও হাটবাজারে পথসভা ও জনসংযোগ অব্যাহত রেখে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাজমা খানম দলীয় প্রতীক ও দলীয় সমর্থনে প্রচার-প্রচারনায় বেশ এগিয়ে রয়েছেন বলে প্রচার পেলেও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী/স্বতন্ত্র প্রার্থী আমজাদ হেসেন লাভলু ও হাবিব খান তাদের অনুসারী দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনার দৌড়ে সমানতালে এগিয়ে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে দাবি করেছে। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের কোন প্রার্থী অংশ না নেয়ায় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দৃশ্যমান কোন ভূমিকা নেই। প্রচার রয়েছে এ নির্বাচন নিয়ে এতো দিনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কোন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াতমন কোন মাথা ব্যথা নেই। যেই নির্বাচিত হোক না কেন-তা হবে আওয়ামীলীগের কিংবা সরকার সমর্থক। এ কারণে জামায়াত-বিএনপি’র ভোটারদের মাঝে এ নিয়ে কোন হিসেব-নিকাশ নেই। তারা ভোটের মাঠে যাবেন কিনা-তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। এ ব্যাপারে তাদের কোন আলোচনা বা সমালোচনা নেই। যেন দর্শকের ভুমিকা পালন করে চলেছেন তারা।
জানাযায়, সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের ৮টিসহ খুলনা বিভাগের বেশির ভাগ উপজেলার পরিষদের নির্বাচন চতুর্থ ধাপে অর্থ্যৎ চলতি মাসের ৩১ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংগত কারণে দেশের বৃহত্তম মণিরামপুর উপজেলাটি অন্যাতম। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেছে। ১টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বিশাল আয়াতনের এ উপজেলাটিতে ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ২শত ৮৪ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬ শত ৩৩ জন ও নারী ভোটর ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪ শত ৫১ জন। ফলে ৪৪৪.৭৩ বর্গ কিলোমিটার আয়াতন বিশিষ্ট্য ও বিশাল এ জনগোষ্ঠি ও ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে পৌছুতে-প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন, করছেন ভোট প্রার্থনা, দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রæতি। ফলে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনার শীর্ষে এখন মণিরামপুর।
অন্য কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় এবং ক্ষমতাসিন দলের দলীয় প্রতীকের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ গ্রহনের কোন বাধ্য বাধকতা না থাকায়, এই উপজেলায় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বাইরে একই দলের দু’জন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন জেলা যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি ও চলতি মেয়াদসহ ২বার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) নাজমা খানম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান (আওয়ামীলীগের টিকিটে নির্বাচিত) জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য আমজাদ হোসন লাভলু মোটর সাইকেল প্রতীক ও সাবেক শিক্ষা সচীব এনআই খানের ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্যাতম নেতা হাবিবুর রহমান খান আনারস প্রতীক প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। ৩ প্রার্থীই জ্বয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সরেজমিন খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, ক্ষমতাসিন দলের বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোটররা এ ভোট নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তারা ভোটের মাঠে যাবেন কি-না? সেটাও নিশ্চিত করে বলা না গেলেও-আওয়ামীলীগ ও সাধারন ভোটররা যারা ভোট দিতে যাবেন-তারা এখন তৃ-ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি গ্রæপ আওয়ামীলীগের প্রার্থী নাজমা খানমের সাথে, একটি গ্রæপ আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আমজাদ হোসেন লাভলুর সাথে থেকে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। এর বাইরে আর একটি গ্রæপ অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিব খানের পক্ষে মাঠ দখলের চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। এ তৃ-ধারার অব্যহত উপস্থিতিতে ভোটররাই এখন বে-কায়দা অবস্থানে আছেন। তবে বিবেকবান ও সচেতন ভোটররা শুনছেন, দেখছেন এবং ভাবছেন। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুল চেরা বিশ্লেষন।
আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাজমা খানম একান্ত সাক্ষাতকারে বলেন, জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। আমি আওয়ামীলীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থী। নারীর ক্ষমতায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনা খুলনা বিভাগে নারীদের মধ্যে আমাকেই একমাত্র মনোনয়ন দিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা আমার সাথে কাজ করছেন। এখানে আমি জয়ের বিকল্প কিছুই ভাবছিনা। মণিরামপুরের উন্নয়নের স্বার্থে ভোটররা আমাকেই এবার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করবেন বলে দৃঢ় কন্ঠে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নৌকা প্রতীকে প্রার্থী নাজমা খানম।
মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামলীগ নেতা আমজাদ হোসেন লাভলু। সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, বছরের পর বছর গোটা উপজেলায় আওয়ামীলীগের হয়ে কাজ করেছি। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে সুখে-দঃুখে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতে থাকবো। সুতরাং ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেয়ার জন্য আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করবো আমিও আমার সমর্থকবৃন্দ। ইনসাল্লাহ আমি জয়লাভ করবো। কেননা, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতৃবৃন্দ আমার সাথেই আছেন। ভোটাররা যদি তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন তবে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। আমার নির্বাচনী জোয়ার দেখে একটি গ্রæপ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু এ অপপ্রচারে আমার জয় রোধ করতে পারবে না ইনসাল্লাহ। জয় আমাদেরই হবেই হবে।
তবে ভিন্ন কথা বলছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিব খানের কর্মী ও সমর্থকেরা। তার পক্ষের কর্মী সমর্থকেরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। উপজেলার একটি সভ্রান্ত পরিবারের সন্তান এবং সাবেক শিক্ষা সচীব এআই খানের ভাই হওয়ায় তাকে খুব ছোট করে দেখার সুযোগ নেই দাবী তাদের। উপজেলার পশ্চিম এলাকার একমাত্র প্রার্থী সে। সুতরাং এ এলাকার ভোট সবই এক পাত্রে অর্থ্যাৎ হাবিব খানের আনারস প্রতীকে পাচ্ছে এবং ভোটে কেউ ভাগ বসাতে পারছে না-এমন ধারনা তাদের। যে কারণে জয়ের ব্যাপের শতভাগ আশাবাদি হাবিব খান ও তার সমর্থকেরা।
সুতরাং চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্দীতা ৩ প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে সেই ফলাফল পেতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৩১ মার্চ রাত পর্যন্ত।


Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category


© All rights reserved © 2020 www.manirampurkantho.com
Site Customized By NewsTech.Com