1. admin@manirampurkantho.com : admin :
শিরোনাম :
ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন বন্ধসহ অপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে মণিরামপুরে বন্ধনের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মনিরামপুরে ৫৫৫ বস্তা চাউল কান্ডে ভাইস চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ডিবির মামলা মণিরামপুরে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে ভূয়া নিয়োগসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন “শুভ মহালয়া”- সবাইকে আগমনীর আনন্দ বার্তা ও শুভেচ্ছা অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস মণিরামপুর সরকারি কলেজে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ মণিরামপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের উপর হামলা হামলায় নারী-পুরুষসহ আহত ১০, দেশী অস্ত্র ও গাজা উদ্ধার মণিরামপুরে কৃষকদলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ৭১’র পরাজিত শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ছাত্রলীগকে মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে -প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য মণিরামপুরে ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির স্মারকলিপি প্রদান

বদলে গেল দড়াটানার দৃশ্যপট

  • Update Time : শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৯
  • ২৩৪ Time View

প্রতিবেদক, যশোর: প্রাণ যায় যায় নদের। চার দশক ধরে ভৈরব নদের গলা টিপে ধরেছিল অবৈধ দখলদার। সেই জঞ্জাল একদিনেই মাটিতে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর যেন ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে পেয়েছে এক সময়ের প্রবাহমান নদ। জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে খুশি যশোরবাসী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা প্রশাসনের প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছে সাধারণ মানুষ । একই সঙ্গে নদের প্রবাহ সচল রাখতে তালিকার বাইরেও অনেকে নানা ফন্দিফিকির করে নদের জায়গা দখল করেছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৯৬ অবৈধ স্থাপনার তালিকা করেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চলবে। সকালে জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীর উপস্থিতিতে অভিযান শুরু হয়। উচ্ছেদে নেতৃত্ব দেন সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ জাকির হোসেন।

শহরের দড়াটা সেতু থেকে বকুলতলা পর্যন্ত ও সেতু সংলগ্ন এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। যদিও রাতে অবৈধ স্থাপনার মালামাল সরিয়ে নেয় মালিকরা। তারপরও উচ্ছেদ ঘিরে দড়াটানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরাদার করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। উৎসুক জনতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। সাধারণ মানুষের চোখে মুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা প্রশাসনকে অভিনন্দন জানিয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া জায়গা সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী করারও দাবি জানানো হয়েছে।

শুধু সাধারণ মানুষ নয়, যশোরের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন। যশোরের জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল বলেন, সড়ক ও জনপথ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় ২৯৬টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। সেগুলি উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
তিনি আরও বলেন, কয়েটি স্থাপনায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেগুলো ভাঙা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২০১৬ সালে ২৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদী ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৯২ কিলোমিটার খনন কাজের ৭০ কিলোমিটার কাজ চলমান রয়েছে। শহর অংশের চার কিলোমিটার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ছাড়া খনন কাজ করা সম্ভব নয়। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ২৯৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় উচ্ছেদ। অবশেষে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে।

নাগরিক সমাজের স্বস্তি: ভৈরব সংস্কার আন্দোলনের উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় ভৈরব খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধার সৃষ্টি হয়। অবশেষে জেলা প্রশাসন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এজন্য সরকার ও জেলা প্রশাসনকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, তালিকার বাইরেও অনেক দখলদার রয়েছে। যারা বিভিন্ন সময়ে ফন্দি ফিকির করে নদীর জায়গা দখল কওে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। জাল জালিয়াতির মাধ্যকে রেকর্ড করেছে। নদীর প্রবাহ সচল রাখতে ওই সব দখলদার উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে হলে নদী অববাহিকার সব ধরণের দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে। একই সঙ্গে খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পদ্মার সঙ্গে সংযোগ হবে এই নদীর। তখন নৌযান চলাচলের উপযোগী করে তুলতে হলে নদের উপরে থাকা ছোট ব্রিজ অপসারণ করতে হবে। ব্রিজ অপসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তাহলে মানুষ সুফল পাবে।

প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ভৈরব নদেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হোক। কিন্তু সেটি হচ্ছিলো না, নানা কারণে। অবশেষে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। যশোরবাসী হিসেবে আমি খুশি। নদী আইন অনুযায়ী পানির প্রবাহে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টিকারী স্থাপনা অপসারণ করতে হবে। ভৈরবের দুপাড়ে নদীর অনেক জায়গা, ১৯২৭ সালে রেকর্ড কওে বসে আছেন অনেকে। সেখানে বহুতল ভবনও হয়েছে। এইসব স্থাপনা নদীর পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। নদী আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সচল করতে যেকোন স্থাপনা অপসারণ করতে হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস বলেন, যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ভৈরবের দুই পাড় অবৈধ দখলদারমুক্ত করা । কিন্তু নানা কারণে সেই দাবি পূরণ হয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভৈরব খনন ও দুই পাড়ের সৌন্দর্য্য বর্ধনের। তার প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিকল্প ছিল না। জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, শুধু উচ্ছেদে সীমাবদ্ধ থাকলেই হবে না। ওই জায়গা যশোরবাসীর জন্য ব্যবহার উপযোগ করতে হবে। কারণ শহরের মানুষের বিনোদনের কোন জায়গা নেই। দুই পাড়ের সৌন্দর্য্যবর্ধনের মাধ্যমে বিনোদনের উপযোগী করে তুলতে হবে। মানুষ যাতে উন্মুক্ত জায়গায় হাঁটতে পাওে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে যশোরবাসী উপকৃত হবে। এছাড়াও যদি সম্ভব হয় যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের পুর্নবাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।


Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category


© All rights reserved © 2020 www.manirampurkantho.com
Site Customized By NewsTech.Com