1. admin@manirampurkantho.com : admin :
শিরোনাম :
বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মণিরামপুরে স্বাস্থ্যকর্মীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলমান ত্রানের চাল চুরির মামলায় প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নে বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মাল ক্রকের আদেশ মনিরামপুরের কৃতি সন্তান ডা. মেহেদী হাসানকে করোনা চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য সংবর্ধনা প্রদান মণিরামপুরে জেল হত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে মামার ধর্ষণের শিকার ভাগ্নি অবরুদ্ধ যে কোন সময়ে অপহরণ হতে পারে ধর্ষিতা ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন বন্ধসহ অপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে মণিরামপুরে বন্ধনের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মনিরামপুরে ৫৫৫ বস্তা চাউল কান্ডে ভাইস চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ডিবির মামলা মণিরামপুরে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে ভূয়া নিয়োগসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন “শুভ মহালয়া”- সবাইকে আগমনীর আনন্দ বার্তা ও শুভেচ্ছা অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস

“সাফল্যের হাত ধরেই ষড়যন্ত্র হাঁটে” ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার

  • Update Time : সোমবার, ২৫ জুন, ২০১৮
  • ২৫৯ Time View
ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যেই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে কাজ করে চলেছে। উন্নয়ন এবং সমস্যা সমাধানে শেখ হাসিনার শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা দেশের মানুষের কাছে সকল সময়ের সীমা অতিক্রম করেছে। দেশবাসীর মতো আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোও ক্রমান্বয়ে তার ওপর আস্থাশীল হয়ে ওঠেছে। 
 
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পদ্মা সেতু নির্মাণে ৩০ এপ্রিল ২০১১ তে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। কিন্তু কানাডার আদালতে প্রকল্পের চুক্তিভিত্তিক কোম্পানি এসএনসি লাভালিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একটি মামলা হয়। ফলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন না করার ঘোষণা দেয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয়। কিছুদিন পূর্বে দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্টারিও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ইয়ান নরডেইমার পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাননি। ওকাম্পোর ফাঁস হওয়া ইমেইল এবং কূটনৈতিক বার্তায় দেখা যায় যে, ড. মুহান্মদ ইউনূস অন্তত তিনবার ইমেইলে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধের জন্য বিশ্বব্যাংককে চাপ দেওয়ার অনুরোধ করে লিখেছেন ’পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ হলে সরকার গ্রামীন ব্যাংক প্রশ্নে নমনীয় হবে। ড. ইউনূসের এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে হিলারী বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী ও নতুন প্রেসিডেন্টকে নূন্যতম অভিযোগ থাকলেও অর্থায়ন বন্ধ করার পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ এবং বর্তমান সরকার বিরোধী প্রচারণা এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিএনপি এবং জামাত প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেছে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রো-ট্রান্সপারেন্সি সংগঠন সানলাইট ফাউন্ডেশনের গবেষণায়। অন্তত তিনটি লবিস্ট ফার্মকে দেওয়া হয়েছে ২০ কোটি ডলার, সেগুলো হলো কে অ্যান্ড এল গেটস, আলপাইন গ্রুপ এবং প্যাটন বগস।এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে দিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণায় ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ডলার। সানলাইটের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১২, ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে এই সংগঠনটি বিপুল পরিমাণ অর্থ অনুদান নেয়। ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সংগঠনটির এশীয় বিষয়ক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস একটি বাংলাদেশি গ্রুপের সেমিনারে যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধের সুপারিশ করেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন নোবেল পুরষ্কার না পান, সেজন্য অন্তত দুটি লবিষ্ট ফার্ম নিযুক্ত করেছিলেন নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী প্রচারণা করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক কংগ্রেসম্যান এবং সিনেটরের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর নব নির্বাচিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে করেন। পরবর্তীতে জার্মানিতেও তিনি বাংলাদেশে তথাকথিত গুম ও নিখোঁজ নিয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা দেন। এরপর ড. ইউনূস কলম্বিয়া যান এবং সেখানে নোবেল জয়ী প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েলকেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গত বছর লন্ডন সফরের সময় খালেদা জিয়া আইএসআই কর্মকর্তাদের সহিত সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির তিন নেতার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতি হতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ।
অপরদিকে দেশের জনগণের উপর আস্থা হারিয়ে বিদেশী শক্তি ও মিডিয়ার নাম ভাঙানোর রাজনৈতিক জালিয়াতি প্রকাশ পায় যখন লন্ডনে স্থাপিত অপপ্রচার উইং ভুয়া বিবৃতির মাধ্যমে ভারতের বিজেপি প্রধান অমিত শাহ টেলিফোন করে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলে তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন এই দাবী করলেও বিজেপি কেন্দ্রীয় কমান্ড সরাসরি অস্বীকার করে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কংগ্রেসম্যান এডোয়ার্ড রয়েস, এলিয়ট এঙ্গেল, স্টিভ শ্যাবট, যোসেফ ক্রাউলি, জর্জ হোল্ডিং ও গ্রেস মেং-এর স্বাক্ষরসহ বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতিতে মার্কিন হস্তক্ষেপ কামনা করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সভার পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েস এ ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।ফলে স্বাক্ষর জাল করে বিবৃতি ছাপানো ঘটনাটির করুণ পরিণতি ঘটে।
বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নালিশ সংস্কৃতির শালিস বৈঠকগুলি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচিত নাহলেও তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “অ্যান্টোনিও বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নির্বাচনে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে আগভাগে কিছু বলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন।” সকলকে মনে রাখতে হবে যে মামলার বিষয়টি দেশের প্রচলিত আইন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা অর্থাৎ আদালতের উপর নির্ভরশীল। এখানে সরকার বা বিদেশী শক্তি করোরই হস্তক্ষেপের কোন প্রকার সুযোগ নেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশকে যেখানে দাঁড় করিয়েছেন, তা এক অসম্ভব সাফল্য, যা অনেকের কাছে অকল্পনীয় আবার অনেকের কাছে ঈর্ষনীয়। মনে রাখতে হবে যে, সাফল্যের হাত ধরেই ছায়ার মত ষড়যন্ত্র হাঁটে, তবে থেমে গেলে ষড়যন্ত্রকারীরা জিতে যাবে। তাই এক্ষেত্রে উন্সটন চার্চিলের (Winston Churchill) একটি উক্তি দিয়ে শেষ করছি, “You will never reach your destination if you stop and throw stones at every dog that barks.” অর্থাৎ (তুমি কখনোই গন্তব্যে পৌছাবেনা যদি যাত্রাকালীন থামো এবং সমালোচকদের প্রত্যেক কথার উত্তর দাও)। তাই সমস্ত সমালোচনা উপেক্ষা এবং ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই হবে, এই হোক প্রতিজ্ঞা।

 

লেখক:
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট


Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category


© All rights reserved © 2020 www.manirampurkantho.com
Site Customized By NewsTech.Com