1. admin@manirampurkantho.com : admin :
শিরোনাম :
মণিরামপুরে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে ভূয়া নিয়োগসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন “শুভ মহালয়া”- সবাইকে আগমনীর আনন্দ বার্তা ও শুভেচ্ছা অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস মণিরামপুর সরকারি কলেজে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ মণিরামপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের উপর হামলা হামলায় নারী-পুরুষসহ আহত ১০, দেশী অস্ত্র ও গাজা উদ্ধার মণিরামপুরে কৃষকদলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ৭১’র পরাজিত শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ছাত্রলীগকে মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে -প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য মণিরামপুরে ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির স্মারকলিপি প্রদান ভূয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভয়নগর দাপিয়ে মনিরামপুরে আটক বাইক চালিয়ে গায়ে হলুদ ও বিয়ের অনুষ্ঠানে কনে

আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে মণিরামপুর উপজেলা আ’লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটির জন্য?

  • Update Time : শুক্রবার, ১১ মে, ২০১৮
  • ১৪৮ Time View

নূরুল হক, মণিরামপুর:

যশোর মণিরামপুর বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজেলার মধ্যে অন্যতম। দেশের দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের অধিকাংশ জনসাধারণ মনে করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা এটি। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভা নিয়ে এটি গঠিত। গ্রামের সংখ্যা রয়েছে ২৪৯টি। এর আয়াতন ৪৪৪.৭৩বর্গ কিমি। যাহা দেশের কয়েকটি ছোট জেলার কাছাকাছি পর্যায়ের সমান। যে কারণে বৃহত্তম এ উপজেলাটি নিয়েই রয়েছে একটি আসন। জাতীয় সংসদের আসন নং-৮৯, যশোর-৫ (মণিরামপুর এলাকা নিয়ে গঠিত)। ৯০-এর স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর দেশে মোট জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫ বার ( ৯৬-এর ১৫ ফ্রেরুয়ারীর বিতর্কিত নির্বাচন বাদে)। এই ৫টি জাতীয় নির্বাচনে মধ্যে ৯১ ও ৯৬ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী খান টিপু সুলতান নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপি ও বিএনপি জোট প্রার্থীকে শোষনীয় ভাবে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের দলীয় একাংশের বিরোধীতা সত্বেও তিনি আবারও  দলীয় মনোনয়ন পান। কিন্তু দলীয় অভ্যন্তরিন কোন্দলের দানাটি তার জয়ের পথটি রুদ্ধ করে দেয়। ফলে অল্প ভোটের ব্যবধানে জোট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মুফতী ওয়াক্কাসের কাছে ধরাসায়ী হন। ২০০৮ সালে এড. খান টিপু সুলতান আবারও আওয়ামীলীগের মনোননয়ন পান এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে  বিএনপি জোট প্রার্থী মুফতী মাওলানা ওয়াক্কাসকে পরাজিত করে হ্যাট্রিক সংসদ সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করতে সক্ষম হন। এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচন। জননেত্রী শেখ হাসিনা আবারও নৌকা তুলে দেন জনপ্রিয় নেতা এড. খান টিপু সুলতানের হাতে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যাই হোক না কেন এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্য স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হলেও তিনি যে আওয়ামী ঘরানার এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ যখন তিনি নির্বাচন করেছিলেন তখনও তিনি জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ পদে আসীন ছিলেন (অবশ্য নির্বাচনের সময় সেপদটি স্থগিত হয়েছিল)।

এ উপজেলারই কৃতি-সন্তানেরা বৃহত্তম রাজনৈতিক দল গুলোর বড়-বড় পদে আসিন হয়েছেন, মন্ত্রীতেরও সাধ গ্রহন করেছেন। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মূল দলসহ দলটির সহযোগি ও অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন এবং করছেন। যে কারণে মণিরামপুর আওয়ামীলীগ পাগল নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা গর্ব করতে পারে, খুশিতে গদ-গদ হয়ে বলতে পারে-আমরা মণিরামপুরের সন্তান। এই জনপদের মাটিতে জন্ম নিয়েই আমরা ধন্য।

কিন্তু প্রিয় পাঠক আজকে এই দৃশ্যের অবতরণা কেন হলো-সেটাই মূল লক্ষ্য। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের আওয়ামীলীগের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়েছিল। সেই সময় ওই সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান সভাপতি ও পৌর মেয়র অধ্যক্ষ আলহাজ্জ কাজী মাহমুদুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন (বর্তমান মরহুম) গোলাম মোস্তফা। ৩ বছর মেয়াদের এই কমিটির কার্যক্রম চলে প্রায় ১ যুগ। এরপর ২০১৪ সালে আবারও সম্মেলন। এবারও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুল হাসান ও মরহুম গোলাম মোস্তফা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। কিন্তু নানা কারণে সেই কমিটির পূর্নাঙ্গ রূপ পেলনা। দলের ভিতর নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে থাকলো। নেতারা হাতাশায় ভূগতে থাকে উপজেলা আওয়ামীলীগের পদ-পদবী নিয়ে। বিধিবাম এরই মধ্যে মণিরামপুরের জানপ্রিয় নেতা, সকলের আস্তাভাজন, যার নেতৃত্বে মণিরামপুরের আওয়ামীলীগ ছিল গতিশীল, দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল প্রানচাঞ্চল্য-চলে গেলেন তিনি না ফেরার দেশে। তিনি আমাদের সকলের প্রিয় গোলাম ভাই।

এরপর মণিরামপুরের আওয়ামীলীগ হয়ে গেলো ১ জন বিশিষ্ট্য কমিটি। আর হলো না পূর্নাঙ্গ কমিটি। হবেও বা কি করে। পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক নিয়ে শুরু হয়ে গেলে নাটকের পর নাটক। মণিরামপুরের আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা পড়ে গেলো আরেক গোলক ধাঁধায়। এ যেন মড়ার উপর খড়ার ঘাঁ। দফায়-দফায় জেলা ও উর্ধতন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ চেষ্টা করেও দলের সাধারণ সম্পাদক পদটি পূরণ করতে পারলেন না। এরপর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীসহ উপজেলা, জেলাসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের ডাক পড়ে কেন্দ্রীয পর্যায় । দীর্ঘ আলোচনা, যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আলহাজ্ব কাজী মাহমুদুল হাসান, মরহুম গোলাম মোস্তফাার কনিষ্ঠ পুত্র প্রভাষক ফারুক হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক, আমজাদ হোসেন লাভলুকে সিনিয়র সহসভাপতি ও আবুল কালাম আজাদকে ১নং সদস্য করে আংশিক কমিটি ঘোষনা করেন এবং অচিরেই অর্থ্যাৎ ১৫ দিনের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করার নির্দেশ প্রদান করেন সংশিষ্ট নেতাবৃন্দের। কিন্তু সে নির্দেশ শুধু চিঠির পাতায় রয়ে গেল। দীর্ঘ  প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো দেখতে পেলেন না মণিরামপুর উপজেলার আওয়ামী পাগল নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। এ প্রশ্ন এখন  কুরেকুরে খাচ্ছে তাদের। হবে কি? মণিরামপুরে উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি। নাকি ৪ সদস্যের ঘোষিত এই অসম্পূর্ণ কমিটিই কি টেনে নিয়ে যাবে আগামী একাদ্বশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত?


Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category


© All rights reserved © 2020 www.manirampurkantho.com
Site Customized By NewsTech.Com